প্রফেসর ড. এম আলিমুল্লাহ্ মিয়্যান

প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস-চ্যান্সেলর, আইইউবিএটি,

পিএইচডি (ম্যান. ইংল্যান্ড), এমবিএ (ইন্ডিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র)

বাণী

বাংলাদেশের গতানুগতিক কৃষি-ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভরশীলতার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কৃষি কার্যক্রম যথা চাষাবাদ, পশুপালন, মৎস্য চাষ এবং তাদের আনুসাঙ্গিক প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়সমূহ উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সার্বিক কৃষিকর্ম বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় নিমজ্জিত এবং কৃষি উৎপাদন ও ভোক্তার সাথে সামঞ্জস্যহীনতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, জ্ঞান-ভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনার চরম ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং এই ঘাটতির ফলে কৃষির সার্বিক উন্নতি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়ণ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে চরম ভুগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাটি, পানি ও পর্যাপ্ত সূর্যালোক তথা বৈচিত্র্যময় ঋতুভিত্তিক ফসলের অনন্যভূমি আমাদের বাংলাদেশ। হিমালয়, মধ্য ভারত, চীন, নেপাল, আসাম ও মায়ানমার থেকে প্রাপ্ত প্রচুর পলিমাটি এ দেশের ভূমির উৎপাদন ক্ষমতাকে বহুগুণ বর্ধিত করেছে যার ফলে এর জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায়, এ দেশের জনসংখ্যাকে জনবলে উন্নীত করতে আইইউবিএটি একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছে। অত্র বিশ্ববিদ্যালয় কৃষির গুরুত্ব অনুধাবন করে বেসরকারি পর্যায়ে সর্ব প্রথম কৃষিতে ডিগ্রি কোর্স চালু করেছে। প্রেক্ষিত এবং প্রয়োজন বিবেচনায় বহুমুখী ধারনা নিয়ে দেশের প্রতিটি এগ্রো-ইকোলজিক্যাল এলাকায় একটি করে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই আঙ্গিঁকে সুদূরপ্রসারী চিন্তার বাস্তবায়নে এবং বর্তমানে কৃষি ব্যবস্থার চাহিদা পূরণে প্রযুক্তি-নির্ভর একটি কৃষি পরামর্শ কার্যক্রম চালু করে সাধারণ মানুষের দোর-গোড়ায় পৌছানোর এক বিশাল ভূমিকা আইইউবিএটি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিনা খরচে কৃষি-বিষয়ক উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার পরামর্শ, কৃষিশিল্প ও উদ্যোক্তাদের চাহিদাকৃত সব ধরণের পরামর্শ দেয়া হবে। আমি আশা করি উক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ বিশেষত: কৃষি কাজে নিয়োজিত কৃষক ও কৃষিশিল্পের উদ্যোক্তাগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। আমি এ কৃষি পরামর্শ কার্যক্রমের সর্বাঙ্গীন উন্নতি ও সফলতা কামনা করছি।